বাইরে থেকে দুষ্কৃতীরা এসে দিল্লিতে দাঙ্গা লাগিয়েছে, দাবি কেজরিওয়ালের | বঙ্গ প্রতিদিন
বঙ্গ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক :- দিল্লির দাঙ্গায় মৃতের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর পরিস্থিতি নিয়ে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সঙ্গে কথা বললেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এর পাশাপাশি দিল্লি বিধানসভায় এক ভাষণে কেজরিওয়াল দিল্লিবাসীর কাছে শান্ত থাকার আবেদন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দাঙ্গায় হিন্দু বা মুসলমান, কেউই লাভবান হয় না। একইসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনৈতিক কর্মী ও বহিরাগতরা শহরে অশান্তি সৃষ্টি করেছে। তাতে ২০ জনের বেশি মারা গিয়েছেন।
তাঁর কথায়, “দাঙ্গায় সকলেই ক্ষতিগ্রস্ত হন। দিল্লিতে ২০ জনের বেশি খুন হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে হিন্দু ও মুসলিম, উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ আছেন। এক পুলিশকর্মীও মারা গিয়েছেন। আমার কাছে আহতদের একটি তালিকা আছে। তাতে দেখা যায়, হিন্দু ও মুসলিম, উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ আহত হয়েছেন।”
পরে তিনি বলেন, “দিল্লির সামনে এখন দু’টো পথ আছে। হয় মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে পরিস্থিতির উন্নতির জন্য চেষ্টা করবে, নয়তো তারা হানাহানি করবে। মৃতদেহের স্তূপের ওপরে আধুনিক দিল্লি গড়ে উঠতে পারে না। যথেষ্ট হয়েছে। ঘৃণা, দাঙ্গা ও অগ্নিসংযোগের রাজনীতি আর বরদাস্ত করা হবে না।”
একইসঙ্গে তিনি আবেদন জানান, “হিংসা ত্যাগ করুন। যদি বহিরাগতরা আপনাদের এলাকায় শান্তিভঙ্গ করতে আসে, পুলিশকে খবর দিন।” অনেকে অভিযোগ করেছেন, কোনও কোনও জায়গায় পুলিশ দাঙ্গাবাজদের সাহায্য করেছে। কেজরিওয়াল বলেন, যদি তা সত্যি হয়, দোষী পুলিশদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এদিন পুলিশের কনভয় নিয়ে উপদ্রুত এলাকায় যান। সেখানে এক ছাত্রী তাঁকে বলে, “আমরা রাতে ঘুমোতে পারছি না। আমরা সবসময় আতঙ্কে আছি। আমি পড়াশোনা করতে পারছি না।” জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বলেন, “চিন্তার কোনও কারণ নেই। পুলিশ ও সরকারের দায়িত্ব শান্তি রক্ষা করা।” সেই ছাত্রী বলে, “পুলিশ নিজের কাজ করছে না। আপনি কি এজন্য কঠোর পদক্ষেপ নেবেন?” তিনি বলেন, “আমি তোমাকে কথা দিচ্ছি।” পরে ডোভাল জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাঁকে দিল্লির দাঙ্গাবিধ্বস্ত এলাকায় যেতে বলেছেন।
নিজে উপদ্রুত এলাকা পরিদর্শনে যাওয়ার আগে ডোভাল দিল্লি পুলিশের স্পেশাল কমিশনার (আইন-শৃঙ্খলা) এস এন শ্রীবাস্তবের সঙ্গে কথা বলেন। রাজধানীতে শান্তিরক্ষার জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা খতিয়ে দেখেন তিনি।

No comments